যে কারণে স্নায়ুরোগ হয়

সুস্থতার জন্য স্নায়ু ঠিক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্নায়ুরোগ বা স্নায়বিক দুর্বলতা একটি মারাত্মক রোগ। এ রোগ সংক্রামক নয় বা এতে রোগীর মৃত্যু না হলেও একে অবহেলা করার কোনো উপায় নেই এবং তা উচিতও নয়। কারণ, এতে রোগীর আত্মশক্তি ক্রমে ক্ষয় হতে হতে রোগী দিনে দিনে অবশেষে অকর্মণ্য হয়ে যায়। আত্দবিশ্বাস হারিয়ে যায়। এ কারণে স্নায়ুর সুস্থ থাকা প্রয়োজন।

আমাদের স্নায়ুগুলো অত্যন্ত সুক্ষ্ম রজ্জু বা তারের মতো গোটা দেহে প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কোষে কোষে জাল-বিস্তার করে ছড়িয়ে আছে। এর মূলকেন্দ্র হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্কে। সেখান থেকে সুষুমাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ডের মাধ্যমে বেরিয়ে এসে শাখায়-প্রশাখায় ভাগ হতে হতে গোটা দেহে ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদ আদান-প্রদান করাই এদের কাজ। মস্তিষ্কের আদেশ-নির্দেশ পরিচালনার মাধ্যমে তা আমাদের দেহযন্ত্রকে চালিত করে থাকে। দেহের ক্ষুধা, তৃষ্ণা, কাম, ক্রোধ, জ্বালা-যন্ত্রণা ইত্যাদি সব ধরনের বৃত্তি, প্রবৃত্তি ও শারীরিক সার্বিক অনুভূতির মূলেই রয়েছে এই স্নায়বিক সঞ্চালন। আর সুস্থ স্নায়বিক সঞ্চালনের উপরে নির্ভর করে আমাদের দৈহিক সুস্থতা এবং সার্বিক কর্মকাণ্ড। এই কাজে স্নায়ুগুলোকে সারাক্ষণই কর্মব্যস্ত থাকতে হয় বলে কেবল রাতে ঘুমের সময় স্নায়ুগুলো বিশ্রামের সুযোগ পায়। তাতে ক্লান্তিমুক্ত হয়ে এরা প্রয়োজনীয় সজীবতা ফিরে পায় এবং আবারও নিজ দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু বিশেষ কোনো কারণে স্নায়ুগুলো বিশ্রামের অভাবে দুর্বল ও অবসন্ন হয়ে পড়লে বিভিন্ন ধরনের স্নায়বিক জটিলতা এসে ভর করে এবং অদ্ভুত সব রোগ বা উপসর্গ দেখা দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন রোগ যেমন অজীর্ণ, অম্ল, রক্তস্বল্পতা, কোষ্ঠবদ্ধতা, অসংযমী কার্য-কারণ বা বিভিন্ন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কারণেও স্নায়ু দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

স্নায়ুরোগের লক্ষণগুলো কি? স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হলে কিভাবে বুঝা যাবে? স্মৃতি বিপর্যয়, বুদ্ধিহীনতা, বিকলাঙ্গতা, বলপ্রয়োগে অক্ষমতা, সামান্য কারণে ধৈর্যচ্যুতি বা রেগে যাওয়া, মুর্ছা যাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যে স্নায়ুজালের বিশেষ ভূমিকার কারণে আমাদের দেহ পরিচালিত হচ্ছে, সেই স্নায়ুজালের একটি মাত্র স্নায়ুর বিপর্যয়ের জন্যে দেহের যেকোনো অংশ অকেজো হয়ে যেতে পারে। তাই এ রোগ প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো ধরনের অবহেলা না করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শুরুতেই সতর্ক হলে এ রোগ সহজে নিরাময় সম্ভব।

স্নায়ুরোগ কেন হয়? এর অসংখ্য কারণ রয়েছে। দৈহিক বা মানসিক শ্রম অনুযায়ী দীর্ঘদিন খাদ্য বা বিশ্রামের অভাব, দীর্ঘকালের অতি ব্যায়াম, দীর্ঘদিনের রাত্রি-জাগরণ, অসংযমী জীবন-যাপন, রক্তাল্পতা বা দেহে বিশুদ্ধ রক্তের অভাব, দুশ্চিন্তা বা মনের উদ্বেগ ইচ্ছাকে জোর করে দীর্ঘদিন চেপে রাখা এবং দীর্ঘদিন অন্য কোনো রোগভোগ ইত্যাদি এ রোগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *